আপনার জন্ম সনদটি অনলাইনে ডিজিটাল আকারে আছে কিনা এবং তথ্যগুলো ঠিক আছে কিনা — জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো অনলাইনে যাচাই করা (অনেকে একে জন্ম নিবন্ধন চেক, জন্ম সনদ যাচাই বা ইংরেজিতে birth certificate check / jonmo nibondhon check-ও বলেন)। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট, এনআইডি কিংবা যেকোনো সরকারি কাজে হাত দেওয়ার আগে হাতের কাছে ১৭ ডিজিটের নম্বর আর জন্ম তারিখটা রাখুন — তারপর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই কয়েক সেকেন্ডে ফলাফল পেয়ে যাবেন।
এই পেজে যা আছে
যাচাই করতে যা যা লাগবে
- ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নম্বর
- সঠিক জন্ম তারিখ (বছর-মাস-দিন / YYYY-MM-DD ফরম্যাটে)
- ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি মোবাইল বা কম্পিউটার
কোনো লগইন, ফি বা অ্যাপ ইনস্টলের প্রয়োজন নেই। শুধু দুটি তথ্য ও একটি ক্যাপচা পূরণ করলেই যাচাই সম্পন্ন হয়।
এখনই অনলাইনে যাচাই করুন
নিচের ঘরে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিন। “যাচাই করুন” বোতামে ক্লিক করলে সরকারি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হবে।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
নিচের ৫টি ধাপ অনুসরণ করে যেকোনো জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই করা যায়। উপরের ফর্মের “যাচাই করুন” বোতামে ক্লিক করলে সরাসরি সরকারি ওয়েবসাইটটি নতুন ট্যাবে খুলবে।
-
সরকারি ওয়েবসাইটে যান
সরাসরি everify.bdris.gov.bd ঠিকানায় যান, অথবা bdris.gov.bd-এ গিয়ে উপরের মেনু থেকে “Birth Registration” → “Birth Registration Information Search”-এ ক্লিক করুন। এটিই যাচাইয়ের একমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট।
-
জন্ম নিবন্ধন নম্বর লিখুন
প্রথম ঘরে (Birth Registration Number) আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর কোনো স্পেস বা ড্যাশ ছাড়া লিখুন।
-
জন্ম তারিখ দিন
দ্বিতীয় ঘরে (Date of Birth) জন্ম তারিখ YYYY-MM-DD ফরম্যাটে দিন — অর্থাৎ প্রথমে বছর, তারপর মাস, তারপর দিন। যেমন ২০০৪ সালের ১৫ মার্চ হলে লিখবেন 2004-03-15।
-
ক্যাপচার যোগফল সমাধান করুন
নিচে একটি সাধারণ যোগ (যেমন 5 + 3) দেখাবে। সঠিক উত্তরটি “The answer is” ঘরে লিখুন। এটি রোবট নয়, প্রকৃত ব্যবহারকারী তা নিশ্চিত করার জন্য।
-
Search বোতামে ক্লিক করুন
সব তথ্য ঠিক থাকলে Search-এ ক্লিক করুন। সনদের নাম, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে দেখা যাবে। রেকর্ড না দেখালে নিচের “সমস্যা ও সমাধান” অংশটি দেখুন।
যাচাইয়ের ফলাফল যেমন দেখাবে
যাচাই করা জন্ম নিবন্ধন কপি ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার নিয়ম
যাচাইয়ের পর তথ্যের পেজে থাকা অবস্থাতেই আপনি সেটি PDF আকারে সেভ বা প্রিন্ট করতে পারবেন। মনে রাখবেন — এটি অফিসিয়াল সত্যায়িত কপি নয়, শুধু যাচাইয়ের প্রমাণ। সত্যায়িত কপির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন/পৌরসভা কার্যালয়ে আবেদন করতে হয়।
কম্পিউটার থেকে
- যাচাইয়ের ফলাফল পেজে থাকা অবস্থায় কিবোর্ড থেকে Ctrl + P একসাথে চাপুন।
- প্রিন্ট উইন্ডোতে Destination হিসেবে “Save as PDF” নির্বাচন করুন।
- Save-এ ক্লিক করে ফাইলটি আপনার কম্পিউটারে সংরক্ষণ করুন।
মোবাইল থেকে
- Chrome ব্রাউজারে ফলাফল পেজে থাকা অবস্থায় উপরের ডান কোণে তিন-ডট (⋮) মেনুতে চাপুন।
- “Share” বা “Print” অপশন নির্বাচন করুন।
- প্রিন্টার হিসেবে “Save as PDF” বেছে নিয়ে ফাইলটি ফোনে সেভ করুন।
PDF-এর নাম, তারিখ ও নম্বর ভালোভাবে পড়া যাচ্ছে কিনা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে স্ক্রিনশটও নিতে পারেন।
সমস্যা ও সমাধান
যাচাইয়ের সময় সবচেয়ে বেশি যেসব সমস্যা হয় এবং তার সমাধান নিচে দেওয়া হলো।
| সমস্যা | কারণ | সমাধান |
|---|---|---|
| কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি — “No data found with this given UBRN” | নম্বরটি এখনো অনলাইনে ডিজিটাইজ হয়নি, অথবা নম্বর কিংবা জন্ম তারিখে ছোট্ট একটা ভুল রয়ে গেছে। | আগে নম্বর আর জন্ম তারিখটা আরেকবার মিলিয়ে দেখুন (তারিখ অবশ্যই YYYY-MM-DD)। হাতে লেখা বা ১৬ ডিজিটের পুরনো সনদ হলে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে গিয়ে ডিজিটাইজ করিয়ে নিন। |
| নাম বা NID দিয়ে খুঁজে পাচ্ছি না | অনলাইনে শুধু ১৭ ডিজিটের নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে যাচাই করা যায় — নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট দিয়ে খোঁজার সুযোগ নেই। | নম্বর মনে না থাকলে যে কার্যালয় থেকে নিবন্ধন করা হয়েছিল সেখান থেকে ১৭ ডিজিটের নম্বরটি সংগ্রহ করুন, তারপর যাচাই করুন। |
| পেজ লোড হচ্ছে না / Request Timeout | সার্ভারে অতিরিক্ত চাপ বা ধীর ইন্টারনেট। | কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন, ব্রাউজার রিফ্রেশ করুন বা রাতের কম ব্যস্ত সময়ে যাচাই করুন। |
| ক্যাপচা ভুল হচ্ছে (Wrong Answer) | যোগফল ভুল লেখা হয়েছে বা ক্যাপচা পাল্টে গেছে। | রিফ্রেশ আইকনে চেপে নতুন ক্যাপচা নিন এবং সাবধানে সঠিক যোগফল লিখুন। |
| পুরনো/হাতে লেখা সনদ যাচাই হচ্ছে না | পুরনো সনদ ডিজিটাল ডেটাবেজে নেই। | ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাইজ ও ১৭ ডিজিটে রূপান্তর করিয়ে নিন। |
১৬ ডিজিট থেকে ১৭ ডিজিট: নম্বর রূপান্তর ও ডিজিটাইজেশন
বর্তমানে অনলাইনে যাচাই করতে ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নম্বর প্রয়োজন। অনেকের সনদে এখনো ১৬ বা ১৩ ডিজিটের পুরনো নম্বর রয়েছে, যা দিয়ে অনলাইনে যাচাই করা যায় না।
- ১৭ ডিজিট কী বোঝায়: প্রথম ৪ ডিজিট জন্মসাল, পরের অংশ এলাকা কোড ও ব্যক্তিগত ক্রমিক নম্বর নিয়ে মোট ১৭ সংখ্যা।
- ১৬ ডিজিট থাকলে করণীয়: সাধারণত জন্মসালের শুরুতে একটি অতিরিক্ত শূন্য (0) যোগ হয়ে ১৭ ডিজিট হয়। তবে নিজে থেকে সংখ্যা বসিয়ে নয় — সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে সঠিক ডিজিটাল নম্বরটি নিশ্চিত করে নিন।
- ডিজিটাইজ করা না থাকলে: ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি করপোরেশন বা bdris.gov.bd-এর মাধ্যমে সনদটি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নিন। এরপরই অনলাইনে যাচাই সম্ভব হবে।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই কেন জরুরি
ভুল বা অ-ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন থাকলে পরবর্তীতে অনেক সরকারি কাজ আটকে যেতে পারে। তাই আগেভাগে যাচাই করে রাখা ভালো।
- স্কুল-কলেজে ভর্তি ও শিক্ষাবোর্ডের রেজিস্ট্রেশন
- পাসপোর্টের জন্য আবেদন
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ভোটার তালিকাভুক্তি
- ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বিবাহ নিবন্ধন
- সরকারি ভাতা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য নাগরিক সেবা
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট কোনটি?
সরকারি ওয়েবসাইটটি হলো everify.bdris.gov.bd। এটি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন যাচাইয়ের একমাত্র সরকারি পোর্টাল।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কি টাকা লাগে?
না। অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই সম্পূর্ণ ফ্রি। শুধু নতুন আবেদন, সংশোধন বা কপির জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি প্রযোজ্য।
নাম, NID বা পাসপোর্ট দিয়ে কি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?
না। অনলাইনে যাচাই করতে অবশ্যই ১৭ ডিজিটের নম্বর ও জন্ম তারিখ — দুটোই লাগবে। শুধু নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্ট দিয়ে খোঁজার কোনো ব্যবস্থা সরকারি সিস্টেমে নেই।
শুধু জন্ম তারিখ দিয়ে কি যাচাই করা যায়?
না। শুধু জন্ম তারিখে হবে না — সাথে অবশ্যই ১৭ ডিজিটের নম্বরটিও দিতে হবে।
মোবাইল দিয়ে জন্ম নিবন্ধন কিভাবে যাচাই করব?
ফোনের যেকোনো ব্রাউজারে (Chrome ইত্যাদি) everify.bdris.gov.bd খুলুন, ১৭ ডিজিটের নম্বর ও জন্ম তারিখ দিন, ক্যাপচা পূরণ করে Search চাপুন — আলাদা কোনো অ্যাপ লাগবে না।
জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য কি কোনো অ্যাপ লাগে?
না। কোনো অ্যাপ ডাউনলোডের দরকার নেই। শুধু ব্রাউজারে সরকারি ওয়েবসাইট everify.bdris.gov.bd ব্যবহার করাই যথেষ্ট ও সবচেয়ে নিরাপদ।
জন্ম তারিখ কোন ফরম্যাটে দিতে হয়?
জন্ম তারিখ দিতে হয় YYYY-MM-DD অর্থাৎ বছর-মাস-দিন ফরম্যাটে। যেমন 2005-08-21।
“No Record Found” দেখালে কী করব?
প্রথমে নম্বর ও জন্ম তারিখ আবার মিলিয়ে দেখুন। ঠিক থাকলেও রেকর্ড না দেখালে সম্ভবত সনদটি এখনো অনলাইনে ডিজিটাইজ করা হয়নি — সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যোগাযোগ করুন।
১৬ ডিজিটের পুরনো নম্বর দিয়ে কি যাচাই করা যায়?
না। অনলাইন যাচাইয়ের জন্য ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল নম্বর প্রয়োজন। ১৬ বা ১৩ ডিজিটের সনদ আগে ডিজিটাইজ করে ১৭ ডিজিটে রূপান্তর করতে হবে।
জন্ম নিবন্ধন নম্বর হারিয়ে গেলে কী করব?
যে কার্যালয় থেকে নিবন্ধন করা হয়েছিল (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন) সেখানে আবেদন করলে নম্বর পুনরুদ্ধার করা যায়।
যাচাই করা কপি কীভাবে ডাউনলোড করব?
ফলাফল পেজে Ctrl + P চেপে “Save as PDF” নির্বাচন করলেই কপিটি সেভ করা যায়। মোবাইলে তিন-ডট মেনু থেকে Print/Share ব্যবহার করুন।
তথ্য সংশোধন করলে অনলাইনে আপডেট হতে কত সময় লাগে?
সংশোধন অনুমোদনের পর ডেটাবেজে প্রতিফলিত হতে সাধারণত কয়েক কর্মদিবস লাগতে পারে। এরপর আবার যাচাই করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
এই ওয়েবসাইটটি কি সরকারি?
না। এটি একটি স্বাধীন তথ্যভিত্তিক গাইড যা আপনাকে সরকারি BDRIS পোর্টালে সঠিকভাবে যাচাই করতে সাহায্য করে। প্রকৃত যাচাই সরকারি ওয়েবসাইটেই সম্পন্ন হয়।
থার্ড-পার্টি অ্যাপ কি নিরাপদ?
যাচাইয়ের জন্য কোনো অ্যাপের প্রয়োজন নেই। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার জন্য শুধু সরকারি ওয়েবসাইট everify.bdris.gov.bd ব্যবহার করাই নিরাপদ।